Thursday, April 20, 2017

হাদীছ পরিবর্তনে মাযহাবী আলেমগণ(علماء المذاهب في تحريف الحديث)

হাদীছ পরিবর্তনে মাযহাবী আলেমগণ

(علماء المذاهب في تحريف الحديث)

(১) শাফা‘আত : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন شَفَاعَتِى لأَهْلِ الْكَبَائِرِ مِنْ أُمَّتِى ‘আমার শাফা‘আত হবে আমার উম্মতের কাবীরা গোনাহগারদের জন্য’।[1]
মু‘তাযিলা বিদ্বানগণের মতে কাবীরা গোনাহগারগণ চিরস্থায়ী জাহান্নামী। তারা শাফা‘আতের হকদার নয়। অতএব তারা এ হাদীছে ‘কাবায়ের’ অর্থ করেছে ‘ছালাওয়াত’ অর্থাৎ ‘ছালাতসমূহের অধিকারী মুমিনদের জন্যই আমার শাফা‘আত হবে’।
কেননা ‘ছালাত’ হ’ল বড় ইবাদত। যেমন আল্লাহ বলেন, وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلاَّ عَلَى الْخَاشِعِينَ ‘ছালাত নিশ্চই বড় বিষয়, বিনত বান্দাগণের উপরে ব্যতীত’ (বাক্বারাহ ২/৪৫)।[2]

তাবলীগীদের স্বপ্নের ধর্ম চিল্লা প্রথা -(بدعة الأربعين)

তাবলীগীদের স্বপ্নের ধর্ম

চিল্লা প্রথা (بدعة الأربعين)


চল্লিশ দিনের জন্য নিজস্ব খরচে তাবলীগে বের হওয়াকে ‘চিল্লা’ বলে। চিল্লা হ’ল তাবলীগীদের ভিত্তিমূলক রুকন (الركن الأساسى)। যে ব্যক্তি চিল্লায় বের হয়, তাকে তারা মহববত করে,

আহলেহাদীছের পাঁচটি মূলনীতি

আহলেহাদীছের পাঁচটি মূলনীতি

قُلْ هَذِهِ سَبِيْلِيْ أَدْعُوْا إِلَى اللهِ عَلَى بَصِيْرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي 
وَسُبْحَانَ اللهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ 
‘বলুন! ইহাই আমার পথ। আমি ও আমার অনুসারীগণ ডাকি আল্লাহর দিকে, জাগ্রত জ্ঞান সহকারে। আল্লাহ পবিত্র এবং আমি অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত নই’ (ইউসুফ ১০৮)। 
‘আহলেহাদীছ’ অর্থ ‘হাদীছের অনুসারী’। পারিভাষিক অর্থে কুরআন ও ছহীহ হাদীছের অনুসারী’। সকল দিক ছেড়ে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের দিকে ফিরে যাওয়ার আন্দোলনকেই বলা হয় ‘আহলেহাদীছ আনেদালন’। ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈনে এযাম ও সালাফে ছালেহীন সর্বদা এ পথেরই দাওয়াত দিয়ে গেছেন। ‘আহলেহাদীছ’ তাই প্রচলিত অর্থে কোন ফের্কা বা মতবাদের নাম নয়, এটি একটি পথের নাম। এ পথ আল্লাহ প্রেরিত সর্বশেষ অহি-র পথ। পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের পথ। এ পথের শেষ ঠিকানা হ’ল জান্নাত। মানুষের ধর্মীয় ও বৈষয়িক জীবনের যাবতীয় হেদায়াত এ পথেই মওজুদ রয়েছে। ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন’ সেই জান্নাতী পথেই মানুষকে আহবান জানায়। এ আন্দোলন তাই মুমিনের ইহকালীন মঙ্গল ও পরকালীন মুক্তির একমাত্র আন্দোলন।

Wednesday, April 19, 2017

বই-বুস্তানুল মুহাদ্দিসীন মোহাদ্দীসিনের বাগান

বই-বুস্তানুল মুহাদ্দিসীন মোহাদ্দীসিনের বাগান

লেখকের নামঃ 
শাহ আব্দুল আযীয বিন অলিউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী।

লেখক পরিচিতিঃ সম্মানিত লেখক ১১৫৯ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২৩৯ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি এমন এক সময় ভারত উপমহাদেশের আকাশে উদিত হন যখন ভারত উপমহাদেশের মুসলমানগণ ইংরেজদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে মুক্তির পথ খুজছিল। মহান আল্লাহ হয়তো মুক্তির পথ বাতলে দেয়ার জন্যই এই মহান মানবকে দুনিয়াতে পাঠান। তাইতো তিনিই সাইয়েদ আহমাদ ব্রেলভীকে ইংরেজ বিরোধী আমীর নিযুক্ত করে শাহ ইসমাঈল শহীদকে তার আনুগত্য করার জন্য বলেন। তিনি অল্প বয়সেই পবিত্র কুরআন হিফজ করেন। নিজ পিতা শাহ অলিউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভীর নিকট থেকে মৌলিক জ্ঞান হাসিল করেন।
সম্পূর্ণ মিশকাতুল মাসাবীহ ও ছহীহ বুখারীর প্রথম থেকে নিয়ে কিতাবুল হজ্জ পর্যন্ত তিনি তার পিতার নিকট পড়েন। এর মধ্যেই তার পিতার মৃত্যু ঘটে তাই তিনি তার পিতার বিশেষ ছাত্রদের নিকট থেকে ইলম হাসিল করতে থাকেন। নিজস্ব স্মৃতি শক্তির দক্ষতা ও পরিশ্রমের বদৌলতে তিনি মাত্র ১৫ বছর বয়সে দারস প্রদানের যোগ্যতা লাভ করেন। ১৫ থেকে নিয়ে ২৫ বছর পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত সুন্দর ভাবে দারস দিয়ে আসছিলেন। স্বল্প সময়ের মধ্যেই তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। ২৫ বছর বয়সে তিনি বিভিন্ন রোগে অক্রান্ত হয়ে পড়েন । ঐতিহাসিকগণের মতে প্রায় ১৪ টি রোগে। তাই নিয়মিত দারস প্রদান তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। তখন তিনি ফতওয়া লিখা, কিতাব প্রণয়ন এবং সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে দারস দেওয়া শুরু করেন। তার বিখ্যাত ছাত্রদের অন্যতম হচ্ছেন। তার নিজ ভাই আব্দুল কাদির, আব্দুল গণি ও রফিউদ্দীন এছাড়া তার ভ্রাতুষ্পুত্র শাহ ইসমাঈল (আল্লাহ তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন) ।
গ্রন্থাবলীঃ
১. ফাতহুল আযীযঃ কুরআনের তাফসীর। তিনি ফারসীতে লিখেছিলেন। অনেক সুক্ষ্ম ইলমী আলোচনায় ভরপুর ছিল কিতাবটি। ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় হিন্দু মুসলিম দাঙ্গায় এর অনেকাংশ হারিয়ে যায়। এখন দুই খন্ড প্রকাশিত রয়েছে।
২. আল ফাতাওয়া ফিল মাসায়িল আল মুশকিলা – এটি তার ফাতাওয়া সংকলন।
৩. তুহফা ইছনা আশারিয়া – শিয়া ফিরকা ইছনা আশারাদের বিরুদ্ধে লেখা দুনিয়ার বেনজীর বই।
৪. আল উজালা আন নাফিয়া – উসুলে হাদীছের উপর লেখা চমৎকার বই।

বুস্তানুল মুহাদ্দিছীন পরিচিতিঃ
নামঃ বুস্তানুল মুহাদ্দিছীন ফি বায়ানি কুতুবিল হাদীছ ওয়া আসহাবিহাল গুররিল মায়ামিন। নামের অর্থঃ হাদীছের কিতাবসমূহ ও তার মহান সম্মানিত লেখকগণের পরিচয়ে লিখিত মুহাদ্দিছগণের বাগান।
বৈশিষ্ট্যঃ
ক. প্রসিদ্ধ প্রায় সকল হাদীছগ্রন্থের পরিচয় বর্ণনা করেছেন।
খ. আলোচিত প্রতিটি হাদীছ গ্রন্থের লেখকগণের পরিচয়ও বর্ণনা করেছেন।
গ. ইলমে হাদীছের প্রতিটি ছাত্র যারা হাদীছ ও মুহাদ্দিছগণ সর্ম্পকে প্রাথমিক ধারণা লাভ করতে চান তাদের দাবী পুরণে বইটি শতভাগ সফল।
ঘ. প্রতিটি বইয়ের পরিচয় দিতে গিয়ে বইয়ে কি আলোচনা করা হয়েছে? কিভাবে বইটি সাজানো হয়েছে ? বইটির কোন তাহকীক বা ব্যাখ্যা আছে কিনা ? সবই বর্ণনা করেছেন।
ঙ. লেখকগণের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তাদের গ্রহণীয় ও অগ্রহণীয় হওয়ার বিষয়ে মুহাদ্দিছগণের মন্তব্য পেশ করেছেন।
চ. কোন বই যদি লেখক থেকে প্রমাণিত না হয় কিন্তু লেখকের নামেই সমাজে প্রসিদ্ধ তাহলে তিনি তা বর্ণনা করেছেন। যেমন তিনি বলেছেন, ‘ইমাম আবু হানীফার নামে প্রচলিত মুসনাদে আবি হানিফা কিতাবটি আবু হানিফা (রহঃ)-এর কিতাব নয়’।
ছ. বইয়ের মান নির্ণয় করেছেন। তখা বইটি কেমন ? বইয়ের কোথাও ভুল আছে কিনা ? ইত্যাদী বিষয় বর্ণনা করেছেন।
যে সমস্ত বইয়ের উপর আলোচনা রয়েছেঃ চার ইমামের লিখিত কিতাব এবং কুতুবে সিত্তাহ সহ প্রায় ৯০ টি হাদীছ গ্রন্থ ও তার লেখকগণের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে অত্র বইয়ে।
তার বইয়ের প্রতি কিছু অভিযোগঃ ১. তিনি বইটি সুন্দর ভাবে সাজাতে পারেন নি। যে আলোচনাকে যেখানে করা উচিত ছিল সেই ভাবে করতে পারেননি। ২. মুসনাদে আহমাদের উপর কিছু অভিযোগ আরোপ করেছেন। তার কথার সারর্মম হচ্ছে, ‘ ইমাম আহমাদ মুসনাদে আহমাদের জন্য হাদীছ জমা করা শেষ করেছিলেন কিন্তু দ্বিতীয়বার দেখা, যাচাই বাছাই করা এবং সাজানোর সুযোগ পান নি। পরবর্তীতে তার ছেলে বইটি সাজায় এবং তাতে অনেক ভুল করে সিরিয়ানদের হাদীছকে মাদানীদের হাদীছের সাথে সংমিশ্রণ ঘটিয়ে ফেলেন’। নাছিরুদ্দীন আলবানী রহঃ এর ‘আয যাব’ নামে একটি গ্রন্থ রয়েছে যাতে তিনি মুসনাদে আহমাদের উপর করা সকল অভিযোগের জবাব দিয়েছেন।
তার বইয়ের উপর কাজঃ ডঃ মুহাম্মাদ আকরাম নাদভী বইটির ফারসী থেকে আরবীতে অনুবাদ করেছেন। সাথে সাথে বইটিকে সাজানো প্রতিটি হাদীছ ও কুরআনের আয়াতের হাওয়ালা এবং টীকা লাগানোর চেষ্টা করেছেন। শায়খ আবুল হাসান আলী হাসান নাদভী আরবী অনুবাদটির ভূমিকা লিখে দিয়েছেন।
শেষ কথাঃ প্রতিটি কাজের ভুল ত্রুটি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আমাদের উচিত উপকারিতাকে প্রাধান্য দেয়া। সেই দৃষ্টিকোন থেকে বইটি ইলমে হাদীছের ছাত্রদের জন্য অসাধারণ উপকারী।
ডাউনলোড:

বইয়ের রিভিউ ও লেখকের বর্ণনা : আবদুল্লাহ বিন আবদুর রাযযাক


Tuesday, April 18, 2017

তাফসীর কি মিথ্যা হতে পারে?

তাফসীর কি মিথ্যা হতে পারে?

আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ
এ দেশের তাফসীর মাহফিলে যারা তাফসীর করছেন, তাদের শতকরা ৯৮ জনই মুফাসসির নন। কারণ তাফসীর করার জন্য অনেক ধরনের বিদ্যার প্রয়োজন। সাথে সাথে তাহক্বীক্ব করে তাফসীর করা জরুরী। কারণ তাফসীর গ্রন্থগুলি জাল ও যঈফ হাদীছ এবং বানওয়াট কাহিনী দ্বারা পরিপূর্ণ। এ থেকে সকলের সতর্ক থাকা উচিৎ। কেননা এতে যেমন দ্বীনের ক্ষতি হয়, তেমনি বক্তা ও শ্রোতার পরকাল ধ্বংস হয়।
বইটিতে তাফসীর কি মিথ্যা হতে পারে? এই প্রশ্নের মাধ্যমে মূলতঃ মিথ্যা তাফসীর পেশ করা হয়েছে। এর দ্বারা জনগণকে মিথ্যা তাফসীর সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করা হয়েছে। কেননা কুরআনের তাফসীর শুনা ও পড়ার নামে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ মিথ্যা তাফসীর শুনে ও পড়ে, যার পর নেই বিভ্রান্ত হচ্ছে। ফলে ইসলামের আসল রূপ তাদের থেকে বিদায় নিচ্ছে। এহেন অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যেই এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।
বইটি ডাউনলোডের জন্য অথবা অনলাইনে পড়ার জন্য নিন্মে  ক্লিক করুন

                                      Mediafire                   Google Drive 

সুরাহ ফাতিহার তাফসীর

সুরাহ ফাতিহার তাফসীর
মূলঃ
মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
অনুবাদঃ
মোহাম্মদ রকীবুদ্দীন হোসাইন

বইটি ডাউনলোডের জন্য অথবা অনলাইনে পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন

Monday, April 17, 2017

Sheikh Mishary Rashid Al-Afasy's-মিশারী রশিদ আফাসী কুরআন ডাউনলোড

Sheikh Mishary Rashid Al-Afasy's FULL/COMPLETE Quran recitation,
 in a zipped folder consisting of 
114 surah mp3 files
 (1.7GB)
মিশারী রশিদ আফাসী কুরআন ডাউনলোড করতে